Time
Bangladesh Dhaka

12:21:16 PM

Australia Sydney

5:21:16 PM

Weather
Yahoo! Weather - Sydney Regional Office, AS


Current Conditions:
Mostly Cloudy, 24 Celsius
Currency Rate

Prayer Time
  • Fajr 4:41
  • Sunrise 6:14
  • Zuhr 1:09
  • Asr 4:53
  • Maghrib 8:02
  • Ishaa 9:31
Reader Number
           

ড. অজয় দাশগুপ্ত
দেশের বৈশাখ ও আন্তর্জাতিক বৈশাখ
বয়সের কারণে স্মৃতি কাতরতা বাড়ছে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু স্মৃতিভূক প্রাণীতে পরিণত হতে চাই না। অতীতকে মনে রেখে সামনের দিকে তাকানোই যৌক্তিক বিবেচনা করি। আমাদের ফেলে আসা দিনগুলি এমন ছিল না। আমাদের বৈশাখও ছিল অন্যরকম। এত এত মিডিয়া, প্রচার মাধ্যম ছিল না বটে, তবু যোগাযোগটা ছিল আত্মিক। আজকাল টিভির পর্দায় পর্দায় যুদ্ধ। এক দল ঢোল বাজালে অন্য দল কাঁসর ঘন্টা বাজিয়ে জানায় বৈশাখ আসছে। আমরা যখন কৈশোরে চট্টগ্রাম, তখন একেবারেই প্রকৃতি নির্ভর পাহাড় আর সমুদ্রে ঘেরা একটি অনুপম নগরী পহেলা বৈশাখে ধুন্ধুমার বাঙ্গালী হবার প্রবণতা অথবা জমকালো আচরণের তখনো দেখা মেলেনি। চৈত্রের শেষ সপ্তায় ধূসর হয়ে আসা বিকাল অথবা আকাশ লাল করা গোধূলিতে ঢাকের শব্দের জন্য কান পেতে অপেক্ষা ছিল আমাদের। না, ঐ ঢাক বাজিয়ে জীবনেও টিভি পর্দা বা মিডিয়া দেখেননি। মনের আনন্দে বাবরা নাচিয়ে বাজাতেন। আকস্মাৎ পাশের ঝোপ অথবা কোন টিনের চালার ঘর থেকে বেরিয়ে আসতো দশাশই এক নর্তক, যার সারা শরীরে অপূর্ব যত বিচিত্র রং মাখানো। পোষাকও অদ্ভুত। মুখে তার ছোপ ছোপ রংয়ের আলপনা। পটকেরা মানুষটি তিন নেত্রের মুখোশ ডম্বুর হাতে নিয়ে বুঝিয়ে দিতেন তিনিই শিব। নটরাজের প্রলয় নৃত্য কেউই শেখায়নি তাকে, তালিম হীন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণবিহীন ঐ শিব সাজানো মানুষটি অনায়াসে মুদ্রায় ফুটিয়ে তুলতেন নিজের চরিত্র। কথক, ভারত নাট্যম অথবা পল্লী বাংলার আদি নাচ শিখিয়েরাও এতটা সাবলীল নয়। তার উদ্দাম নৃত্যের মাঝখানে আবির্ভূতা হতেন গৌরী আর পার্বতী। ঝলমলে পোষাকে আর অলংকার সজ্জিতা। কালক্রমে জেনেছি হর গৌরীর হর ভদ্রলোকটির নাম মিলন বটে গৌরী দেবী মূলত গোয়াল পাড়ার সামশু। ছেলে হয়ে মেয়ে সেজে, পার্বতী হয়ে নেচে বৈশাখের এমন সম্ভাষণ আজকাল নিশ্চয়ই চোখে পড়ে না। 'দিনগুলো মোর সোনার খাঁচায় রইল না' বলে আক্ষেপ করব না, বলব, দেখুন ছোকাবুকির মুখোশ বা উড়িয়া নাচের সাথে কোন রকম সম্পর্ক না থাকার পরও কতটা অগ্রগামী ছিল আমাদের সংস্কৃতি, দক্ষিণ ভারতে মুখ রাঙিয়ে রং মেখে যে নাচ আজ পৃথিবীর পর্যটকদের ভারতে টেনে আনছে, আমাদেরও তা ছিল। কাজে লাগাতে পারিরি আমরা। এই ভাবে, এ জাতীয় নাচ-গানে অসাম্প্রদায়িক পহেলা বৈশাখ এসে দাঁড়াতো বাঙালির উঠোনে। কখনো রং দিয়ে আবাহন হয়নি তার। কখন হল? যখন আমরা স্বাধীন দেশে গণতান্ত্রিক সমাজের রাজনীতি বলে গলা ফাটাচ্ছি। মূলতঃ ঐ রাজনীতিই পহেলা বৈশাখকে খুনে রাঙ্গিয়ে দিয়েছে। পহেলা বৈশাখই একমাত্র দিন যার মাঝে ধর্ম ও রাজনীতি জড়িয়ে নেই। অথচ সেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙ্গালীর জাতীয় উৎসব। সেটা কি কেবল দেশে? এখন সে সীমানা পদ্মা মেঘনা সুরমা যমুনা পেরিয়ে পৃথিবীর নানা দেশে বিস্তৃত। বাঙ্গালী যেখানে বসবাস করে, যে দেশে থাকে সে দেশেই পহেলা বৈশাখ উদযাপন করে। আগ্রহ এতটাই এ নিয়ে দল, উপদল, কোন্দল কোনটাই বাদ পড়ে না। মূলত সাম্প্রদায়িক রং বা অনুকারকে তাড়াতেই এর প্রয়োজন। সে দিকটা দেশের মত বিদেশেও উপেক্ষিত। সাধারণ বাঙ্গালী নববর্ষে, নব পোষাকে ঝলমলে মন নিয়ে অপেক্ষা করে বটে। প্রশান্ত পাড়েও যেন দ্বিধা আর দ্বন্দের সীমানা ডিঙ্গাতে পারে না। আমাদের বৈশাখ যেমন আমাদের অস্তিত্ব তেমনি আরেক অস্তিত্ব জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। তার নামে পরিষদ আর আর উপদলে বিভক্ত সিডনির বৈশাখী আয়োজন সাধারণ বাঙ্গালীকে দ্বিধাগ্রস্থ করে রেখেছে। যে ধারাবাহিকতায় অন্যান্য সংগঠন ও কর্মকান্ডগুলোও কখনো এ দল কখনো ও দলের চাপে দিশেহারা পহেলা বৈশাখ উদযাপনে কলান্ত। এ খেলা অথবা এ প্রতিযোগিতা কি পহেলা বৈশাখ তথা নববর্ষের সাথে যায়? সবাই যার যার প্রয়োজনে 'ঝরে যাক জ্বরা, মুছে যাক গ্লানি' বলে গান গায় বটে, মূলতঃ ঐ জ্বরা আর গ্লানিই বয়ে বেড়ায় এবং তা সঞ্চারিত হয় প্রত্যক্ষান্তরে। হবে না কেন? সারাবছর বাংলা ও বাঙ্গালী বিহীন মধ্যবয়সী মানুষটি যদি এই সব খেলার হুরোধা অথবা সামনের কাতারে থাকতে মুখিয়ে উঠেন। বঙ্গবন্ধু বৈশাখী মেলা তো ঐক্যের প্রতীক হতে পারার কথা নয়। তাই হচ্ছে। আমরা যারা প্রবাসী বাঙ্গালী দেখছি আর ভাবছি আর কতদূর যেতে পারো তোমরা! কারণ, এতে তো বাঙ্গালীত্ব বৈশাখের ক্ষতি বৃদ্ধি নেই। সাধারণ বাঙ্গালী দেশের শেকড়ে বেঁচে থাকার প্রেরণায় তাকে ধরে রাখবেই। এবং অপেক্ষা করছে ছেলেবেলায় দেখা সেই শিব-পার্বতীর মিলনের জন্যে। যেখানে হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান নির্বিশেষে, আওয়ামী-বিএনপি ভেদ ভুলে এক হয়ে উঠবে। এক হয়ে উঠবে সকলের ভালবাসা। যেমনটি উঠবে এখন দেশে কে অপেক্ষা কে নেতা, কে কর্মী? কে তার ধার ধারে! এমনকি বোমা পড়লেও সে যায় গিয়ে জানিয়ে দেয় আমি তো মরিনি, মরেনি আমার পহেলা বৈশাখ। প্রবাসেও বাঙ্গালীই তাকে বাঁচিয়ে রাখবে। সিডনির এক বাঙ্গালী রেস্তোরায় নোটিশ ঝুলছিল 'পহেলা বৈশাখ সকাল থেকে রাত অবধি পান্তা ইলিশ পাওয়া যাবে। যেতেই হবে, কেউ শখ করে যায় আর কেউ পেটের ক্ষুদায়। তবুও বৈশাখের জয় হোক, জয় হোক বাঙালির। dasguptaajoy@hotmail.com.