Time
Bangladesh Dhaka

12:21:16 PM

Australia Sydney

5:21:16 PM

Weather
Yahoo! Weather - Sydney Regional Office, AS


Current Conditions:
Mostly Cloudy, 24 Celsius
Currency Rate

Prayer Time
  • Fajr 4:41
  • Sunrise 6:14
  • Zuhr 1:09
  • Asr 4:53
  • Maghrib 8:02
  • Ishaa 9:31
Reader Number
           

ড. অজয় দাশগুপ্ত
মহামায়া দুর্গা
বাংলা ব্যাকরণে ‘পুরুষ সিংহ’ অর্থাৎ পুরুষ সিংহের ন্যায় পড়ে বড় হওয়া বাঙালি আমরা। নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবার জন্য হোক আর পুরুষ শাসিত সমাজের জন্যই হোক, নিজেকে সিংহ ভাবাটা পুরুষের দর্পপূর্ণ করে দেবী-দুর্গা আমার দৃষ্টি কেড়ে নেন ভিন্নভাবে। সিংহ বাহিনী দুর্গার শক্তি মূলতঃ নারী জাগরণ আর সাম্যবাদের প্রতীক। বলাবাহুল্য দুর্গা যে অঞ্চলে সঠিক পূজিতা, যে অঞ্চলে তার উত্থান ও প্রচার, সেখানে নারী তথা মাতৃশক্তি বিকাশের বিকল্প নেই। অজেয় দুর্গা যেখানে কেবল মাতা হয়ে থাকলে অনাচার, দুঃশাসন, অন্যায়, অবিচার থামবে না, মূলতঃ সে কারণেই হয়তো তিনি সিংহবাহিনী, অসূররূপী পুরুষ দানবের পৃষ্ঠে পা রেখে অবতীর্ণা। জাত, পাত, উঁচু, নিচু ঝামেলায় পর্যদুস্ত হিন্দুদের মাথা উঁচু করে বাঁচতে হলে শক্তি সঞ্চয়ের বিকল্প দেখি না। ফলে দেব-দেবী বা ধর্মে আস্থা রাখলে দুর্গার শরণাপন্ন হওয়ারও গত্যন্তর নেই। শাস্ত্র যাঁরা জানেন, তাঁদের অজানা নয় স্বর্গপুরী নামে পরিচিত দেবালয় থেকে ইন্দ্রের পলায়ন এক অতি সাধারণ ঘটনা। বহুবার পলায়নরত এই দেবরাজকে দেখে বা পড়ে মনে হয় উনি নিঃসন্দেহে ভারতবর্ষের তথা বাংলা মুল্লুকের রাজা লক্ষণ সেনের অতীত বংশধর। দুয়ারে দাঁড়ানো প্রতিপক্ষের সংখ্যা, শক্তি বা শৌর্যের পরীক্ষা না নিয়েই পালিয়ে যায়। ইন্দ্রের জীবন তো বটেই অসূর শক্তির বিরুদ্ধে দেবপুরী নামে পরিচিত অঞ্চলের সুরক্ষা দিতে যুগে যুগে দেবীর প্রয়োজন পড়েছে। মানেটা এই স্বয়ং দেবতা ও নারী শক্তি হীনতার যথার্থ ও দূর্বল। আমাদের জীবন ও পরিবার প্রথায় নারীর ভূমিকা দ্বিখন্ডিত। যতক্ষণ সে মা ততক্ষণ শ্রদ্ধা ও ভক্তির সামনে, যখনই স্ত্রী, ভগ্নি অথবা অন্য কেউ তখন তার ভূমিকা ও অস্তিত্ব টলটলায়মান। এ কারণেও শক্তি সঞ্চয়ের বিকল্প নেই। দুর্গার নামে কেবল শক্তির যোগ বা অসূর দমনের বিষয়টি পড়িয়ে ফেললে ন্যায় হবে না। যে ঋতুতে তাঁর পূজো, সে সময় তিনি আসেন তাঁর সাথে বাঙালির মনোজাগতিক যোগাযোগটাও গুরুত্বপূর্ণ। শরৎকাল বাংলাদেশের সবচেয়ে দৃষ্টি নন্দন ও স্পর্শকাতর সময়, না গরম, না ঠান্ডা, দুপুর বা মধ্যাহ্নের প্রখরতা বিকেল হতেই মিলিয়ে যায়। তখন স্নিগ্ধ হাওয়ায় মন পুড়ানো উদাস সন্ধ্যায় হাত ধরে বাড়ি ফিরে যায় বাঙালি। গৃহকোণে শান্তি আর সচ্ছলতার প্রত্যাশায় বেড়ে উঠা এক একটি পরিবারের জীবন-যাপন একেক ধরণের বটে কিন্তু হিন্দু মাত্রেই প্রত্যাশা আর কতদিন বাকী, আর ক’দিন পর মহালয়া অর্থাৎ দেবী দুর্গার আগমন! কেবল শক্তি স্বরূপা হলে দেবী দুর্গার পরিবর্তে মা কালী ও সে শাসন অনায়াসে নিতে পারতেন। দুর্গার সাথে রয়েছে শিক্ষা-সংস্কৃতি, ধন-ঐশ্বর্য সাহস ও বিঘœ হরণের প্রতীক তাঁর সন্তানেরা। হিন্দু ধর্মকে প্রাচীন বলে সনাতন ধর্মরূপে গণ্য করা হয়। দুর্গা কাঠামো অর্থাৎ লক্ষ্মী সরস্বতী, কার্তিক গণেশের দিকে তাকালে কি মনে হয় না আধুনিক প্যাপকেতোর ঘনবদ্য সংস্করণ, কোন কালে, কোন অতীতে বলতে গেলে ভারতীয় সভ্যতার ঊষালগ্নে আরাধ্য দেবীর সাথে এতগুলো চাহিদা ও প্রার্থনার সমন্বয় আমাকে বিস্মিত করে। যে কারণে হিন্দুত্বের প্রাচীনতার পরও তার একটা অমোঘ জ্যোতি বা বৈশিষ্ট্য ধরা পড়ে। এ জ্যোতি প্রাচীনত্ব ঘুচিয়ে তাকে সবসময়ই আধুনিক করে রেখেছে। এটাই হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে বড় শক্তি। দুর্গা আরাধনার ভেতর দিয়ে শিল্প, সংস্কৃতি, শিক্ষা সাহস ও ধন প্রার্থনা একদিকে যেমন চাহিদা মেটায় অন্যদিকে আমাদেরকে উদারতা ও বিনয়ী করে তোলে, বা করে তোলার প্রেরণা যোগায়। যে কারণে উগ্রতা পরিত্যাজ্য। রাজনীতি বা যে কোনো ধরণের শক্তি বলয়ে আমাদের ধর্মের ব্যবহারও তাই অনুচিত। এর সুরক্ষার জন্য রাজনীতি বা পেশী শক্তির প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা। কিন্তু এর মানে এটা নয় যে, সর্বক্ষেত্রে মার খেয়ে অধিকার বঞ্চিত হয়ে বাঁচতে হবে। দুর্গার প্রয়োজন সেখানেই সঠিক। মায়ের কাছ থেকে শিশু যেমন ভরসা ও সাহস খুঁজে পায়, দুর্গার কাছ থেকে তাই যেন নিতে পারি আমরা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজেদের ছোট করে আনন্দ পাই আমরা। বৃহত্তর জাতি-গোষ্ঠীর সামনে নতজানু বা ছোট ভাই, বোন হবার নির্বোধ কৃতজ্ঞতা থেকে মুক্তি প্রার্থনা হোক এবারের অঙ্গীকার। শারদ উৎসব সমাগত হলেই আমার মন খারাপ হতে শুরু করে। প্রয়াত জনক দেশে স্মৃতি হারানো মা, বোন ঘরনীর জন্য, বন্ধুদের জন্য আনচান মন কোন কিছুতেই স্থির হতে পারে না। পূজোতো শুধু আচার নয়, এ আমাদের রক্ত মজ্জায় প্রবাহিত। আমাদের জীবন ও মৃত্যু অবধি বিস্তৃত এক সূচির আধার। পৃথিবীর যে প্রান্তে যে দেশেই থাকি না কেন, মা মাতৃভূমি, শক্তিরূপিনী জননী দুর্গা জেগে আছেন, জেগে থাকবেন। dasguptaajoy@hotmail.com.