Time
Bangladesh Dhaka

12:21:16 PM

Australia Sydney

5:21:16 PM

Weather
Yahoo! Weather - Sydney Regional Office, AS


Current Conditions:
Mostly Cloudy, 24 Celsius
Currency Rate

Prayer Time
  • Fajr 4:41
  • Sunrise 6:14
  • Zuhr 1:09
  • Asr 4:53
  • Maghrib 8:02
  • Ishaa 9:31
Reader Number
           

আশীষ বাবলু
পৃথিবীতে প্রতিভার আগমন যত উজ্জল, তার বিদায় তত নিষ্ঠুর
মাইকেল জ্যাকসন হঠাৎ করে চলে গেলেন। মৃত্যু জিনিসটা খুবই খারাপ তবে চিরদিন বেঁচে থাকার মতো অতটা খারাপ না। মৃত্যুর মধ্যে দেখতে হবে মহিমা, তারপর কি? বেহেশ্ত অথবা দোজখ। স্বর্গ অথবা নরক। মাঝামাঝি একটা অবস্থারও সম্ভাবনা আছে। সেটা হচ্ছে ভূত হওয়া। ভূতদের খুবই কষ্ট। গাছে গাছে, চিপাগলি অথবা ভাঙ্গা জমিদার বাড়িতে জীবন কাটানো। মাইকেল জ্যাকসনকে নিয়ে তো শুরুতেই ঝামেলা, ঈশ্বর বলছেন, - যে মাইকেল পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলাম তার সাথে তো মৃত মাইকেলের চেহারা মিলছে না, তুমি কে হে ছোকরা? আদম আর ইভকে ঈশ্বর বলেছিলেন, বাবারা তোমরা আর যাই করো, ঐ ফলটি কিন্তু খেয়ো না। অথচ দু'জন ঘুরেফিরে ঐ ফলটি খেয়েছিলেন। এটা আমাদের হাউজ ফিজিশিয়ান হরিপদ ডাক্তারের বারণ নয়। আলু খেয়ো না, মোটা হবে। এটা ছিল বিশ্ব বিধাতার বারণ। তবু আদম এবং ইভ সে ফলটি খেয়েছিলেন। আপনারা বলবেন কোমলমতি আদম আর ইভ নিজের ইচ্ছায় খায়নি, খেয়েছিল শয়তানের প্ররোচনায়। আপনার কথার পরিপ্রেক্ষিতে আরেকটা কথা এসে যায়- তবে স্বীকার করতে হবে ঐ ফলটির গুণাগুণ দুজনে জানতো। একজন ঐ ফলের সৃষ্টিকারী বিধাতা অন্যজন প্রতিদ্বন্দী শয়তান। আরো কথাও আসে ফলটি ঈশ্বর তৈরি করেছিলেন কেন? নিজের জন্য তো নিশ্চয়ই নয়, শয়তান তো খাবেই না। সে তো আগে থেকেই জেনে গেছে ঐ ফল খেলে ফলভোগ করতে হবে। এখন বাকী থাকলো আদম আর ইভ। সত্যিকার অর্থে ঐ ফলটি ঈশ্বর তৈরি করেছিলেন আদম আর ইভের জন্যই। এখন কথা আসছে কেন তৈরি করেছিলেন? ঈশ্বর বলেছিলেন- এই যে বিশ্বছবি তিনি আঁকছেন তা মানুষ দেখুক। ভাল এবং মন্দ এই দুটোকে মিলিয়ে জীবনকে অনুভব করুক। আর আদম এবং ইভ সেই ফল খেয়েছিলেন কেন? সে খেয়েছিল নিষেধ ভাঙ্গার আনন্দে। আর এই স্বভাবটা মানুষের চরিত্রে দেওয়া বিধাতার সবচাইতে বড় দান। যেখানেই নিষেধ সেখানেই নিষেধ ভাঙ্গার আকর্ষণ। মানব সভ্যতার এই অগ্রগতি হয়েছে কিছু মানুষের নিষেধ ভাঙ্গার কারণেই। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, যাহারা কেবলই বিধি মানিয়া চলে তাহার সমাজকে বহন করে মাত্র অগ্রসর করে না। আমার মতো নয়টা-পাঁচটা অফিস করে মরটগেজ পেমেন্ট আর রিটায়ার করার পর কতটা বড়লোক হবো সেই হিসেব করে না। যে ভদ্রলোক পৃথিবীর সবচাইতে বড়লোক, তিনি জীবনে কখনো নয়টা-পাঁচটা অফিস করেননি। এমনকি এইচ.এস.সি পরীক্ষায়ও বসেননি। তিনি হচ্ছেন স্কুল ড্রপআউট বিল গেটস। এরা মানুষ হয়েও অন্য জাতের। এরা নিষেধ ভেঙ্গে পৃথিবীকে কিছু দিয়ে গেছেন। আমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় এই জীবনে তুমি কি করেছো? উত্তর হবে ঘোড়ার ডিম করেছি। মাইকেল জ্যাকসনের ৫০ বছরের জীবনে সঙ্গীত জগতে এক ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছেন। সাড়ে সাতশ মিলিয়ন রেকর্ড বিক্রি হয়েছে তার। গিনেস বুক বলেছে- মোস্ট সাকসেসফুল এন্টারটেনার অফ অল টাইম। অথচ এতো অর্থ, এতো সম্মানের পরও তার জীবন কেচ্ছা কেলেঙ্কারীও বেহিসাবে ভরা। তার মৃত্যুও স্বাভাবিক নয়। আত্মহত্যাই বলা যায়। শেলী বলেছিলেন- আই ফল আপন দ্যা থর্ন অব লাইফ, আই ব্লিড। আমি বারবার জীবন কাটার উপর পরে রক্তাক্ত হচ্ছি। তিনি জলে ডুবে আত্মহত্যা করেছিলেন। আমরা জানি মাইকেল মুধুসূদনের মতো ব্যক্তি বাংলায় খুব বেশি জন্মগ্রহণ করেননি, জীবনের শেষের দিকে প্রায় সারাক্ষণ মদ খেতেন তিনি। একদিন এভাবে মদ খাওয়া দেখে তার এক বন্ধু বলেছিল- এ কি করছো? এতো আত্মহত্যার সামিল। মধুসূদন সামান্য হেসে উত্তর দিয়েছিলেন- ইটস্ আ সেøা বাট শিওর প্রসেস, এন্ড আই নো দি রেজাল্ট ইনএভিটেবল। সকল যুগে, সকল দেশে কোনো শিল্পীর জন্য যদি দুই বিন্দু অশ্রু বিসর্জন করতে হয় সে কে? সে হচ্ছে ভিনসেন্ট ভ্যানগন। তার সমস্ত জীবনটা হচ্ছে এক মস্ত ট্র্যাজেডি। তিনি নিজের কান কেটে প্রেমিকের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। একটি গুলিতে নিজহাতে জীবন অবসান ঘটিয়েছিলেন। আমরা বলবো ভদ্রলোক কি পাগল না মাথা খারাপ। মাথাখারাপ হলে এমন চোখ ধাধানো ছবি কেউ আঁকতে পারে? হেমিংওয়ে বন্দুক পরিষ্কার করছিলেন একদিন। হঠাৎ বন্দুকটা নিজের মাথার দিকে তাক করে ট্রিগার টিপে দিলেন। তারপর যা হবার তাই হলো। একেই বলে মৃত্যুর সাথে প্রেম। ভিকটর হুগো বলেছেন- আ বিউটি হুইচ ইজ ডেথ অর্থাৎ মরণের তুচ্ছ মম শ্যাম সমান। এখন কথা হচ্ছে- এইসব প্রতিভার মানুষেরা জীবন নিয়ে কেন এত ছিনিমিনি খেলে। কেন এমনভাবে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়? উত্তর হচ্ছে এইসব মানুষেরা রোজকার পৃথিবীর মাঝে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারে না। তেলাপোকা সৃষ্টির শুরু থেকেই আজ পর্যন্ত টিকে আছে, অথচ ডাইনাসোর চলে গেছে। তারা পৃথিবীর আবহাওয়ায় নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারেনি। সাধারণ সমাজ সহ্য করতে পারে না প্রতিভার বিস্ফোরণ। প্রতিভাবান নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে না সাধারণ পৃথিবীর মাপে। যতবার খ্রিষ্ট আবর্তিত হবেন পৃথিবীতে ততবারই তাকে হতে হবে ক্রুশবিদ্ধ। প্রতিভার অবদান আমরা চাই কিন্তু বাঁচিয়ে রাখার জায়গা নেই পৃথিবীতে। মাইকেল জ্যাকসনের গান আমাদের প্রয়োজন। রেকর্ডিং এর পর তার সিডি চাই আমাদের। শিল্পীদের প্রয়োজন নেই আমাদের। আমরা তার ব্যক্তিগত জীবনের কুৎসা রটাবো, যতদিন তার নিঃশ্বাস বায়ু বন্ধ না হয়। তাই আমাদের পৃথিবীতে প্রতিভার আগমন যত উজ্জল, তার বিদায় তত নিষ্ঠুর, তত কঠোর, তত বেদনার।