Time
Bangladesh Dhaka

12:21:16 PM

Australia Sydney

5:21:16 PM

Weather
Yahoo! Weather - Sydney Regional Office, AS


Current Conditions:
Mostly Cloudy, 24 Celsius
Currency Rate

Prayer Time
  • Fajr 4:41
  • Sunrise 6:14
  • Zuhr 1:09
  • Asr 4:53
  • Maghrib 8:02
  • Ishaa 9:31
Reader Number
           

কায়সার আহমেদ
রাজনীতির হালচালঃ গনতন্ত্রের পথে বাংলাদেশ
সিডনি থেকে প্রকাশিত নতুন পত্রিকা "বাংলা বার্তা" প্রথম সংখ্যায় লেখার অনুরোধ পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। আশা করি পত্রিকাটির সম্পাদক নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সকল মতালম্বীদেরকেই এই পত্রিকায় মত প্রকাশের সুযোগ করে দেবে। সবথেকে বেশী দাবী থাকবে পত্রিকাটি যেন নিয়মিত বের হয় হউক সেটা পাক্ষিক বা মাসিক বা ত্রৈমাসিক। নিয়মিত চাই। লেখার শুরুতেই পত্রিকাটির সফলতা কামনা করছি। বাংলাদেশে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সব ঠিকঠাক মত চললে আগামী ২৯শে ডিসেম্বর নির্বাচন আর আমরা নতুন বছরে পেতে যাচ্ছি একটি গনতান্ত্রি¿ক সরকার। দেশটি আবারো গনতন্ত্রে¿র পথে ফিরে যাচ্ছে। মানুষের জন্য রাজনীতি। আর সেই রাজনীতির আদর্শ উদ্দেশ্য সফলভাবে বাস্তবায়ন করে জনগনের দোরগোরায় পৌছাতে হলে দলটিকে অবশ্যই ক্ষমতায় যেতে হবে। মজলুম জননেতা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, কমরেড মনি সিং, রাশেদ খান মেনন, নির্মল সেন, ড. কামাল হোসেন এর মত অনেক নামী দামী সৎ রাজনীতিবিদদের নেতৃত্বাধীন দল ক্ষমতায় না যেতে পারার কারনে তাদের কোন আদর্শই বাস্তবায়ন করতে পারেননি। বাংলাদেশের মত দেশে বিরোধী দলের আসনে বসে বা সংসদের বাহিরে থেকে কোনমতেই কোন রাজনৈতিক দলই তাদের দলের মেনিফেস্টো বাস্তবায়ন করতে পারবে না। আর এই সোজা কথাটিই আমাদের দেশের অনেক খ্যাতিমান কলামিস্ট বা বুদ্ধিজীবিরা বুঝছেন না বা বুঝতে চান না। এটা কোন নতুন বিষয় নয় যে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলটির যখনই ক্ষমতায় যাবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে তখনই কোন না কোনভাবে ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এবারো আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে আবারো একটি গোষ্ঠী সোচ্চার। বিভিন্ন পত্রিকায় আওয়ামী লীগের জন্য কান্নাকাটি করে বলা হচ্ছে দলটি ক্ষমতার স্বার্থে স্বৈরাচারের সাথে হাত মিলাচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট গঠিত হচ্ছে। আর তাদের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। এ বিষয়টি সবার নিকট পরিষ্কার যে বাংলাদেশের ভোটের গননায় বর্তমানে ক্ষমতায় যেতে হলে এরশাদের জাতীয পার্টিকে অবহেলা করা যাবে না। আর একটা কথা সকলকে ভুললে চলবে না যে এই জাতীয় পার্টি ১৯৯৬ সনের তত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাচনে প্রায় ৩৫টি সংসদীয় আসন দখল করেছিলো, শুধু তাই নয় পতিত স্বৈরাচার এরশাদ জেলে থেকেও মোট পাঁচটি সংসদীয় আসনে জয় লাভ করে। যেখানে ৩৫টি সংসদীয় এলাকার জনগন এরশাদকে চাইছে সেখানে গনতন্ত্রে¿র ভাষায় তাকে বাদ দিবেন কিভাবে? আর সবার ভুললে চলবে না সেই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বাধার কারনে কোন নির্বাচনী সভাও ঠিকমত করতে পারেনি। তাছাড়া ঐ নির্বাচনে এরশাদের ইলেকশন ইনজিনিয়ারিংয়ের কোন সুযোগ ছিল না। সম্প্রতি ট্রান্সপেরেন্সি ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারমেন মোজাফ্ফর আহমেদ দুই নেত্রী সম্পর্কে মন্তব্য করতে যেয়ে বলেছিলেন দুর্নিতীবাজ বলুন আর যাই বলুন জনগন তাদের চাইলেতো আর কিছু করার নেই। একদিকে বলবো গনতন্ত্র¿ চাই আবার অন্যদিকে জনগনের রায়কে মানবো না তাতো হবে না। আওয়ামী লীগ যদি ২০০১ এর নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় যেতে না পারতো তবে কি বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জেল হত্যার বিচার বন্ধের ইন্ডেমনিটি বিলটিকে সংসদে উথ্বাপন করে বাতিল করা সম্ভব হতো? শুরু হতো কি বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার? নাকি জেলে জাতীয় চার নোতার হত্যার আসামীদের বিচারের সম্মুখীন করানো যেতো? না কিছুই হতো না। এবার যদি ক্ষমতায় যেতে না পারে তবে কি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে? পারবে কি সংবিধান থেকে হারিয়ে যাওয়া চার স্তম্ভকে ফিরিয়ে দিতে? আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা অঙ্গীকার করেছেন গতবার ক্ষমতায় থেকে তারা যে ভুলগুলো করেছেন আগামীতে ক্ষমতায় যেতে পারলে তা তারা সংশোধন করবেন। আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা সময়ের দাবীতেই আজ ১৪ দল, জাতীয় পার্টি, ও এলডিপিকে নিয়ে মহাজোট গঠন করে বিচক্ষনতার পরিচয়ই দিয়েছেন। বিগত চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় যেয়ে যেভাবে আওয়ামী লীগ ও স্বাধীনতা পক্ষের শক্তি নিধনে নেমেছিল, এবার যদি তারা জামাতের সহযোগিতায় আবারো যদি ক্ষমতায় যেতে পারে তবে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব হয়তোবা বাংলাদেশে আর থাকবে না। গত জোট সরকারের আমলে বাংলা ভাইয়ের মত মৌলবাদী সন্ত্র¿াসীদের লালন করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতা এস.এম.কিবরিয়া, আহসানউল্লাহ মাস্টার, আইভি রহমান সহ অগনিত নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। এমনকি জননেত্রী শেখ হাসিনাও তাদের হত্যা তালিকা থেকে বাদ যায়নি। ১৯৭৫ থেকে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করার যে ষড়যন্ত্র¿ চলছে তা আজো থামেনি। মহাজোটে জাতীয় পার্টির অংশগ্রহনে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এই জোটের ক্ষমতায় যাবার সম্ভাবনা প্রকোট হয়েছে। আর বাংলাদেশে মুখোশধারী কিছু লেখক ও বুদ্ধিজীবি এটাকে কেন্দ্র করে পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রচারে নেমেছেন। তাদের ভাবটা এমন যে তারা আওয়ামী লীগের শুভাকাংখী, শুধুমাত্র স্বৈরাচারকে বাদ দিলে ভালো হয়। ওয়ান ইলেভেনের পর থেকে দেশের একটি পত্রিকার সম্পাদক, যার সম্পর্কে শেখ হাসিনা স্পষ্টতই বলেছিলেন যে এরা ডিজিএফআইয়ের এজেন্ট। এরা শেখ হাসিনার গ্রেফতার সংবাদটি পর্যন্ত লিড নিউজ করেননি আজ সেই পত্রিকাতেই বিভিন্ন ফরমায়েশী লেখা হচ্ছে তাকে স্বাধীনতা স্বপক্ষের একজন করার জন্য। পত্রিকা চরিত্র বদলে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। আমরা অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছি আগামীতে যদি মহাজোট ক্ষমতায় আরোহন করতে পারে তবে নিশ্চয়ই জনগনের কল্যানে দেয়া অন্যান্য প্রতিশ্রুতি পুরনের সাথে সাথে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজটি সহ ১৯৭২ সনের সংবিধানকে ফিরিয়ে দেবে। আশা করি জননেত্রী শেখ হাসিনা তার দেয়া কথা রাখবেন। সিডনি ২৭শে নভেম্বর ২০০৮: লেখক আমেরিকান নিউজ এজেন্সির (এনা) অস্ট্রেলিয়া প্রতিনিধি।