Time
Bangladesh Dhaka

12:21:16 PM

Australia Sydney

5:21:16 PM

Weather
Yahoo! Weather - Sydney Regional Office, AS


Current Conditions:
Mostly Cloudy, 24 Celsius
Currency Rate

Prayer Time
  • Fajr 4:41
  • Sunrise 6:14
  • Zuhr 1:09
  • Asr 4:53
  • Maghrib 8:02
  • Ishaa 9:31
Reader Number
           

কায়সার আহমেদ
রাজনীতির হালচালঃ যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকার শূন্য সংসদ চাই
বাংলা বার্তার সকল পাঠককে শুভ নববর্ষ। এ লেখাটি যখন বাংলা বার্তায় প্রকাশিত হবে ততক্ষনে জনগনের রায়ে আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা কোন রাজনৈতিক দলের হাতে থাকবে তা হয়তো নির্দ্ধারিত হয়ে গেছে। দীর্ঘ প্রায় দুটি বছর পর দেশ আবার গনতন্ত্রের পথে পথচলা শুরু করতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে সবথেকে বেশী যে বিষয়টি নতুনতরভাবে প্রাধান্য পাচ্ছে তা হলো যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচারের দাবী। বিভিন্ন দিক থেকে অরাজনৈতিক ভাবে জনগনের নিকট একটিই বিনীত আবেদন জানানো হচ্ছে প্রার্থী যে দলেরই হউক না কেন যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্তরা যেন নির্বাচিত হয়ে স্বাধীন বাংলার পবিত্র সংসদকে কলুষিত করতে না পারে। দেশের বরন্য কুলা কুশলী, সাংস্কৃতিক কর্মী থেকে আরম্ভ করে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের ফোরাম যুদ্ধাপরাধীদের ভোট না দেবার আর্জি নিয়ে হাজির হচ্ছেন জনগনের দরবারে। বাংলা নামে যে দেশটি ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত ও ৩ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সে দেশটি আজ পরিণত হয়েছে সব সম্ভবের দেশে। যে সব নরপশু আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করে বাংলাদেশকে ১৯৭১ এ পরিণত করেছিলো এক বধ্যভূমিতে সেই সব কুখ্যাত রাজাকারদের গাড়ীতে উড়ে স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা। সেই সব স্বাধীনতা বিরোধীরা আজো মেনে নিতে পারেনি বাংলার স্বাধীনতাকে। আজো তারা বলে বেড়ায় ১৯৭১ সালের যুদ্ধ কোন স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল না, সেটা ছিলো পাকিস্তানের গৃহ যুদ্ধ। স্বাধীনতা বিরোধীকারী জামাতে ইসলামীর নেতা নিজামী সম্প্রতি বলেছেন যে কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব ভুল ছিল না। আজো তার দুঃসাহস হয় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে কায়েদে আযম (জাতির পিতা) বলে সম্মোধন করার। অথচ তিনি বাংলাদেশের নেতৃত্বদানকারী নেতা, বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা বলতে দ্বিধাবোধ করেন। ভালো লাগছে যে এবারের ২৯শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে সকল শ্লোগানের সাথে সাথে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী উঠেছে, তাদেরকে ভোট না দেবার প্রচারনায় নেমেছে দেশ প্রেমিক গোষ্ঠী। বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী আজ বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিকৃত করে গবেষনা গ্রন্থ বের করছে। জামাতের প্রাক্তন আমীর গোলাম আজম সেই ব্যাক্তি যিনি ১৯৭১ এ বাংলাদেশে মানবেতিহাসের জঘন্যতম হত্যাজজ্ঞের হোতা বিশ্বাসঘাতক দালালদের মধ্যে অনিবার্যভাবে সবচেয়ে ঘৃনিত। তিনিই সর্বপ্রথম খুনী জেনারেল টিক্কা খান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক শাসকের দায়িত্ব নিয়ে আসলে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়ে জল্লাদ টিক্কা খানের সাথে দেখা করে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিলেন। বাংলার বিজয়ের সন্ধিক্ষনে বাংলাদেশকে জন্মলগ্ন থেকে মেধা শুণ্য করার লক্ষ্যে বুদ্ধিজীবিদের উপর নিশংস হত্যাকান্ড চালিয়েছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় লালিত আল বদর বাহিনী। আর সেই বাহিনীর হাই কমান্ডের অন্যতম নেতা ছিলেন তৎকালিন ইসলামী ছাত্র সংঘের (বর্তমান নাম ইসলামী ছাত্র শিবীর) সমগ্র পাকিস্তানের প্রধান এবং বর্তমানে বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামী। তৎকালিন আল বদর বাহিনীর হাই কম্যান্ডে আরো যারা ছিলেন তাদের মধ্যে বর্তমান জামাতের উচ্চ পদস্থ নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান (১৯৭১ এ আল বদর বাহিনীর প্রধান সংগঠক), একেএম ইউসুফ ১৯৭১ এ ঘৃনিত রাজাকার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা এবং কুখ্যাত রাজাকার দেলোয়ার হোসেন সাইদী। এরা সবাই এবারের নির্বাচনে সাংসদ পদে প্রার্থী। এদের রুখতে হবে, এখনই সময়। একটা বিষয় দুঃখজনক হলেও সত্যি যে ১৯৯১-১৯৯৬ বাংলাদেশের ক্ষমতায় ছিলো বিএনপি-জামাত জোট সরকার। বিরোধী দলের আসনে ছিলো স্বাধীনতা যুদ্ধ নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আর তার নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। বিরোধী দলের আসন থেকে আওয়ামী লীগের সাংসদরা সংসদে নিয়মিত দাবী করে আসছিলেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের। আরো একটি কাজ করেছিলেন তারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্যে সংসদে বিরোধী দলের পক্ষে একটি বিলও উথ্বাপন করেছিলেন। বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতার বিলটি তৎকালিন বিএনপি-জামাত জোট সরকার সময় চেয়ে চেয়ে পাঁচটি বছর হিমশীতল ঘরে পাঠিয়ে দিয়েছিলো। এরপর স্বাধীনতা যুদ্ধ নেতৃত্বদানকারী দলটি পরবর্তী নির্বাচনে জয়ী হয়ে পাঁচটি বছর ক্ষমতায় থাকলেও বিচার বিভাগের সেই বিলটি আর ফেরত আসেনি সংসদে। তৎকালিন (১৯৯১-১৯৯৬) বিরোধী আওয়ামী সাংসদরা পরবর্তীতে সরকারী সাংসদ (১৯৯৬-২০০১) হবার পরও পাঁচটি বছর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীর বিষয়ে আর সোচ্চার হননি সংসদে। নির্বাচন ২০০৮ কে সামনে রেখে সকল দল ও জোট তাদের ইশতেহার ঘোষনা করেছে। আওয়ামী লীগ এর পক্ষে ২০২১ সালের মধ্যে আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে "দিন বদলের সনদ" শিরোনামে ২৩ দফা ইশতেহারের ঘোষনা দিয়েছে আওয়ামী লীগ প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষে "দেশ বাঁচাও-মানুষ বাঁচাও" শ্লোগান তুলে ৩৬ দফার ইশতেহার প্রকাশ করেছে দলের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া । বড় দুই দল ও জোটের নেত্রীদ্বয়ের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারের সামান্য অংশও যদি ক্ষমতায় যেয়ে তারা পূরন করে তবে দেশের চেহারা ভালোর দিকে পাল্টাতে থাকবে। দু দলের ইশতেহারেই দেশের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। এবারের ইশতেহারের অনেক প্রতিশ্রুতিই আগের নির্বাচনগুলোতেও দেয়া হয়েছিল এবং তার কিছুই পূরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি নির্বাচনের পর। সবই তারা ভুলে গেছেন। আওয়ামী লীগ এবারের ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস কঠোর হস্তে দমন করার অঙ্গিকার করেছে। প্রতিশতি দিয়েছে ২০১২ সালের মধ্যে দেশকে পুনরায় খাদ্যে আত্মনির্ভরশীল করা, আগামী ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা, বেকারত্বের হার ৪০ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, আগামী ৫ বছরে দারিদ্র্যের হার কমিয়ে ৪৫ শতাংশ থেকে ২৫-এ নামিয়ে স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষাকে সবার জন্য অবৈতনিক করা. দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরো শক্তিশালী করা এবং দারিদ্র্য বিমোচনে কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া। আরো প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে ২০২১ সালকে টার্গেট করে আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার। দ্রব্যমূল্য হ্রাস ও মহামন্দা রোধ, দুনীতি দমন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে আওয়ামী লীগ দিন বদলের সনদ নামে ২৩ দফা নির্বাচনি ইশতেহার প্রাকাশ করেছে। ২০২১ সালকে টার্গেট করে আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে। এ প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১২ সালে অর্থাৎ ৪ বছরের মধ্যে দেশকে পুনরায় খাদ্যে আত্মনির্ভরশীল করা, আগামী ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা, বেকারত্বের হার ৪০ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, আগামী ৫ বছরে দারিদ্র্যের হার কমিয়ে ৪৫ শতাংশ থেকে ২৫-এ নামিয়ে আনা,স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষাকে সবার জন্য অবৈতনিক করা. দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরো শক্তিশালী করা এবং দারিদ্র্য বিমোচনে কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া। আওয়ামী লীগের ইশতেহারে গভীর সংকট থেকে দেশকে উদ্ধার করে ক্ষুধা-দারিদ্র্য-নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলে উন্নয়ন, গণতন্ত্র, শান্তি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নেয়ার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করা হয়। চাল, ডাল, তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসা. মুল্য সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়া, বিশ্বমন্দা মোকাবিলায় টাস্ক ফোর্স গঠন এবং তথ্য বিশে¬ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার কথা ইশতেহারে বলা হয়েছে। ইশতেহারে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হবে ২০ হাজার মেগাওয়াট। ৩ বছর মেয়াদি ক্র্যাস প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করে ২০১৩ সালের মধ্যে ৭ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০১৫ সালের মধ্যে ৮ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে। আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করাসহ বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মানবাধিকার, আইনের শাসন ও নাগরিক মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শিক্ষা, বিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তি খাতে সর্বোচ্চ ব্যয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা, নতুন শিক্ষা নীতি প্রনয়ন করে শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক, ২০১৩ সালের মধ্যে সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা এবং ২০১৫ সালের মধ্যে সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করা হবে। ঢাকায় আরেকটি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, পদ্মা সেতু নির্মাণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সড়ক, রেল ও নৌ পথের আধুনিকায়ন করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতি সত্তা ও আদিবাসী জনগোষ্ঠির অধিকার সংরক্ষণ ও তাদের প্রতি বৈষম্যমুলক আইন বাতিল করা হবে। সার্ক, বিমসটেকসহ আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার এবং ইসলামিক উম্মার সংহতি ও ইসলামি দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা উন্নততর করা হবে। সমমর্যাদার ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণœ রেখে 'সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়'-এই নীতির ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং হরতাল ও অবরোধ না করার ব্যাপারে ইশতেহারে কোনো বক্তব্য নেই। জঙ্গিবাদ দমনের কথা সরাসরি উল্লেখ না করে ইশতেহারে বলা হয়, ধর্মের নামে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উত্থান অঙ্কুরেই দৃঢ়ভাবে দমন করতে বিএনপি সংকল্পবদ্ধ থাকবে। আন্তর্জাতিকভাবে সংশি¬ষ্ট সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সাহায্য নেয়া হবে। নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে দ্রব্যমূল্য হ্রাস, আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও সন্ত্রাস দমন, দুর্নীতি দমন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দারিদ্র বিমোচনের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবার। দেশ বাঁচাওÑমানুষ বাঁচাও ¯ে¬াগানকে সামনে রেখে ৩৬ দফার নির্বাচনি ইশতেহারে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংসদে আলোচনার পর প্রাসঙ্গিক আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা, নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণের ৩০ দিনের মধ্যে সকল জনপ্রতিনিধিকে সম্পদের বিবরণী প্রকাশ, বিশেষ ক্ষমতা আইন বাতিল, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নিয়োগের অঙ্গীকার করা হয়েছে। বিএনপি পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, ব্যাপক কমসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসংস্থান প্রকল্প, জাতীয় জ্বালানী নীতি, শিক্ষা ব্যবস্থাকে গণমুখী এবং কর্মমুখী করার লক্ষ্যে দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিনের মধ্যে যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি পরামর্শ কমিটি গঠন, স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের পড়ালেখা অবৈতনিক এবং আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশে যাতে কোনো নিরক্ষর না থাকে তা নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিকভাবে সংশি¬ষ্ট সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সাহায্য নেয়া হবে। বিএনপির ইশতেহারে ঘোষিত অন্যান্যের মধ্যে প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নিয়োগ ও পদোন্নতির বিষয় বিবেচনা করে হবে মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতা ও চারিত্রিক গুণাবলি এবং সিনিয়রিটির মাপকাঠিতে অন্যতম। এ বাহিনীর সদস্যদের মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধানের আদর্শে উজ্জীবিত করে সকল বিতর্কের উর্ধ্বে রাখা হবে। এছাড়া কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এবং বিচার ব্যবস্থা ও বিচারবিভাগের স্বাধীনতার বিষয়গুলো ইশতেহারে রয়েছে। সর্বশেষ দফায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউ রহমানের মৃত্যুর দিনকে জাতীয় শোক দিবস এবং সরকারী ছুটি ঘোষণা করা এবং ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ছুটি পুনর্বহাল করা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার অঙ্গীকার। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি দেশকে আটটি প্রদেশে ভাগ করা ও শরিয়ত আইন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষনা দিয়েছে। জাপা ক্ষমতায় যেতে পারলে জাতীয় নির্বাচনে প্রত্যেক দলের প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে সংসদ সদস্য নির্বাচন করার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ, হরতালসহ সংঘাতময় রাজনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধের জন্য আইন প্রণয়ন, সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিতে সম্পৃক্ত করা, নিবন্ধিত গরীবদের মাঝে বিনামূল্যে চাল, ডাল ও তেল বিতরণ, এবং বিনামূল্যে জš§নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিতরণের ও পথকলি ট্রাস্ট পুনঃপ্রতিষ্ঠা সহ অন্যান্য প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে দলটি। স্বাধীনতা বিরোধীতাকারী দল জামায়াতে ইসলামী ইশতেহার ঘোষণাকালে দলটির আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী বলেছেন, তার দল ক্ষমতাসীন হলে হরতাল ও অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি বে-আইনী করার উদ্যোগ নেবে। একই সঙ্গে ধর্মবিরোধী প্রচারণা ও কটূক্তিকারীদের প্রতিরোধ ও শাস্তি বিধানের জন্য ব্লাসফেমি জাতীয় আইন প্রণয়ন করা হবে। জামাতের ৩১ দফা ইশতেহার আরো যা রয়েছে তার মধ্যে সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্কার: হরতাল-অবরোধকে বেআইনি করা ও গণতান্ত্রিক রীতির মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধন, সংসদ বিষয়ক সংস্কার: সাংসদরা যাতে সংসদে অনুপস্থিত থেকে সংসদকে অকার্যকর করতে না নারে সেজন্য প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা, ইসলামী গবেষণা ও প্রচার: ইসলামের ওপর গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প প্রণয়ন, বিদেশনীতি: সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয় নীতিতে চলা, এনজিও কার্যক্রম : এনজিও কার্যক্রমকে সম্পূর্ণভাবে রাজনীতিমুক্ত করা হবে, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তা: সাংবিধানিক ও মানবিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অন্যতম। উপরোক্ত দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহার অর্থাৎ প্রতিশ্রুতি বিশ্লেষন করলে দেখা গিয়েছে একমাত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস কঠোর হস্তে দমন করার বিষয়টি এবার জোড়ালোভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছে তবে তারা আগামীতে হরতাল অবরোধ বিষয়টি তাদের ইশতেহারে এড়িয়ে গেছেন। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি তাদের ইশতেহারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার করলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি সরাসরি বলেনি তবে এই দল হরতাল ও অবরোধ নিয়ে আইন প্রনয়নের অঙ্গীকার করেছে। অন্যদিকে স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং হরতাল ও অবরোধ না করার ব্যাপারটি পুরোপুরি এড়িয়ে গেছেন তাদের ইশতেহারে এমনকি জঙ্গিবাদ দমনের কথাটিও সরাসরি উল্লেখ করেনি। অথচ রাজাকার বেষ্টিত বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্বীকার করতেও দ্বিধান্বিত সেই দলটি তাদের ইশতেহারে ক্ষমতাসীন হলে ব্লাসফেমি-র মত বিতর্কিত মানবতাবিরোধী কালো আইন প্রণয়ন করার দুঃসাহসিক ঘোষনা দিয়েছে। তবে তারাও জাতীয় পার্টির মত হরতাল ও অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি বে-আইনী করার উদ্যোগ নেবার অঙ্গীকার করেছেন। সিডনি ২৫শে ডিসেম্বর ২০০৮: লেখক: আমেরিকান নিউজ এজেন্সির (এনা) অস্ট্রেলিয়া প্রতিনিধি।